পহেলা বৈশাখের শুরুটা আসলে কিভাবে?

পহেলা বৈশাখের শুরুটা আসলে কিভাবে? কোন উৎসব হিসেবে নয়, শুরুটা হয়েছিল দিল্লীর জুলুমবাজ সম্রাট আকবরের হাতে, বাংলার প্রজাদের থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। আসুন একটু কল্পনা করি! শুরুটা না হয় একটা খারাপ মানুষ করেছিল, একটু উৎসব হতে মন্দ কী! খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর জন্য বছরের এই দিনে একটুখানি আনন্দ আর বিনোদন মিলবে। একটু অবকাশ, একটু বিশ্রাম, একটু বিরতি দিয়ে কাজের বাঁধন থেকে একটুখানি মুক্তি।
কিন্তু না, এই নতুন দিনে একটুখানি স্বস্তিতে আর চলছে না, এবার ঘটা করে আয়োজন করা চাই। ঘটা করে আয়োজন তো আর lame কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে হতে পারে না, চাই ভারি কোন ইস্যু, কোলকাতার দাদারা তাই লাফিয়ে পড়লেন এই নববর্ষকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশপ্রভুদের মন জয়ের পুজোয়। তাই ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এই নববর্ষের ঘটা করে উদযাপন। এটা অজানা নয়, উপমহাদেশের হিন্দু জমিদারেরা ছিল ব্রিটিশ দখলদারদের ডান হাত, আর মুসলিমরাই ছিল প্রধান শত্রু। সে যাই হোক, এই নববর্ষ নিছক অবকাশের গণ্ডি থেকে বের হয়ে প্রথমবারের মত রুপ নিল উৎসবের, জমিদারী পৃষ্ঠপোষকতায়, তাও আবার সাদা চামড়ার জয়গান গেয়ে! যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভূমির পর ভূমি দখল করে সম্পদ পাচার করেছে নিজভূমে, তাদেরই কীর্তনে সেই চাটুকার গোষ্ঠীটি নেচে-গেয়ে উঠল আবার, দ্বিতীয় বিশযুদ্ধের প্রাক্কালে। আধুনিক ভাষায় এদের যুতসই প্রতিশব্দ, “রাজাকার”।
২০১৪ সাল, দুদিন পরে মানুষ নববর্ষ পালন করতে ছুটে যাবে। ভাবালু কণ্ঠে বারবার বলা হবে এই উৎসব বাঙ্গালী “শত বছরের শাশ্বত ঐতিহ্য”। একটু ভেবে দেখুন, সময়ের সাথে কিভাবে বদলে যায় একটা উৎসবের মতিগতি, ভাবগাম্ভীর্য আর ঐতিহ্য। যে নববর্ষের শুরু খাজনা আদায় নিয়ে, সে উৎসব অবকাশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কিভাবে-কিভাবে হয়ে গেল নিজেকে বাঙ্গালী প্রমাণের মহোৎসব। হালখাতার প্রচলন না থাকলেও ব্যবসা আছে, খাজনার রীতি না থাকলেও চেতনা আছে। চিন্তায়-চেতনা-চলনে-বলনে-অন্তরে জেঁকে বসেছে পৌত্তলিকতা আর পশ্চিমা ভাবধারা, বাঙ্গালিপনার ঠাঁই হয়েছে চোয়ালজোড়ায়।
দু’দিন পর নববর্ষের নামে যা হবে, দু’শ বছর আগে কি তা হত? তখন কি হিন্দুদের মূর্তির অনুকরণে মুখোশ আর মূর্তি বানিয়ে কেউ “মঙ্গল যাত্রা” করত? নাকি আজকের দিনটি ছিল তাদের জন্য নির্লজ্জতা আর ‘চান্স নেবার দিন’? নাকি সেটি ছিল মানুষকে পান্তা-ইলিশ খাইয়ে বাঙ্গালী হবার মিছে সান্ত্বনা দিয়ে টাকা হাতাবার পবিত্র দিবস?
শয়তানের পরিকল্পনা এমনই, আপনাকে ধোঁকা দিয়ে এমন কাজে ঠেলে দেবে যার শেষে কী ভয়ানক পরিণতি আছে তা আপনি শুরুতে ভাবতেও পারবেন না। যারা আজ থেকে দু’শ বছর আগে নববর্ষ এই ভেবে পালন করেছে, “আচ্ছা কী হয় ‘ছুটির দিনে’ একটু ভালো-মন্দ খেলে-পরলে, হালকা গান-বাজনা করলে?”, তারা কি এটা ভেবেছে, এই নববর্ষকে কেন্দ্র করে হিন্দু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ব্রিটিশদের গোলামিকে শৈল্পিক রুপ দেবে? তারা কি এটা কল্পনা করেছে তাদের উত্তরসূরী কন্যারা এমন দিনে নির্লজ্জ বেশে বের হয়ে উগ্রতার বাজারে লালসার পণ্য হয়ে ঘুরে বেড়াবে? তারা কি কল্পনা করেছে তাদের অপদার্থ ব্যক্তিত্ববিবর্জিত চরিত্রহীন পুত্ররা গার্লফ্রেন্ডের মনোরঞ্জনের পেছনে পয়সা উড়িয়ে বেড়াবে? তাদের মনে কি এসেছে, এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলিমরা, যাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ) নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মূর্তি গুড়ো গুড়ো করেছিলেন আর যাদের নবী নিজ হাতে মক্কা থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেছিলেন, সেই নবীর উম্মত আজকে আবার সেই মূর্তি বানাবে নিজ হাতে আর সেই মূর্তি-হাতে-মুখোশ পরে “মঙ্গল যাত্রা”র মিছিলে যোগ দেবে, যে মিছিলে প্রকৃতিপূজারী আর ভণ্ড নাস্তিকরা কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে নয়, সূর্যের কাছে?
আদম (আঃ) এর পরে পাঁচজন পুণ্যবান মুসলিম ছিলেন, যাদের প্রতি অতিভক্তি আর শ্রদ্ধায় মানুষ মূর্তি নির্মাণ করে আর সেই পূণ্যবান মানুষগুলোর তাওহীদের আদর্শ ভুলে গিয়ে মূর্তিগুলোকেই একসময় তারা পূজো করতে শুরু করে, অথচ সেই পাঁচজন পূণ্যবান মুসলিম ছিলেন, মুশরিক ছিলেন না! আল্লাহ তাই কুরআনে বলেছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে” [১]। কেননা, শয়তানকে কেউ জেনেশুনে অনুসরণ করে না, অনুসরণ করে তার পদাঙ্ক। আদমকে শয়তান বলেনি, তুমি আল্লাহর অবাধ্যতা করো, বলেছে অমুক গাছের ফল খাও চিরকালের রাজত্ব পাবে। তাই আমরা দেখি, “সুস্থধারার সামাজিক ছবি”র চারা থেকে জন্ম নেয় পর্নোগ্রাফি মহীরূহ ইন্ডাস্ট্রি, অথবা যার সূচনা “বাদ্যবিহীন গানের আসর” দিয়ে, তার পরিণতি গিয়ে ঠেকে নষ্টামি ভরা ডিজে পার্টি, সেখানে যুগের সাথে তাল-মিলিয়ে চলা প্রগতিশীল ছেলে-মেয়েরা হাত ধরাধরি করে মদ খেয়ে মাতলামি করে।
এদের পরিণতি কি? আল্লাহ বলেন,
“…এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব। আর এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই তাকে যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রভুর নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর পরকালের শাস্তি তো বেশী কঠিন এবং অধিক স্থায়ী।” [২]
যা ছিল এককালে ভালো নাস্তা বানাবার উপলক্ষ, তা আজ চক্ষু-কর্ণ-জিহবা-অন্তরের যিনার প্লেগ্রাউন্ড। যে উৎসবের শুরুটা ছিল হয়ত নিছক শ্রান্তির জন্য, সেই উৎসবে আজ নষ্ট চেতনা, শিরকী আচার এবং সুস্পষ্ট হারাম কাজের মহোৎসব। যে উৎসবের জন্ম জুলুম আর অন্যায়ের গর্ভে, যে উৎসব চাটুকার-রাজাকারদের কোলে লালিত, সে উৎসব আজ আত্মপরিচয়হীন জাতির “প্রাণের উৎসব”। যে উৎসবে বাঙ্গালি আর মুসলিমদের শত্রু ব্রিটিশদের জয়গান গাওয়া হত, সেই উৎসব আজ বাঁআলী মুসলমানেরা জাঁকজমকভাবে পালন করে সোৎসাহে।
শয়তান তার শয়তানী এজেন্ডা নিয়ে এভাবেই হাজির হয়, কখনো উৎসবের মোড়কে, কখনো বা চেতনায় বাঁধাই করে, ভেতরে থাকে আল্লাহর অবাধ্যতা। শয়তান চায় আপনাকে এ সংকীর্ণ দুনিয়ার প্রতি আপনাকে মোহগ্রস্ত করে ফেলতে, যাতে আপনি ভুলে থাকেন আগামী দিনে আপনার সাক্ষাৎ রয়েছে আপনার রবের সাথে। তার উদ্দেশ্য কিছু লোককে আল্লাহর পথে থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, সুরে-উপমায়-ছন্দে (সূরা ইসরাঃ ৬৪)। আর এই উৎসবগুলো নিছক কিছু সেই উদ্দেশ্য সাধনে কিছু উপলক্ষ, যার দ্বারা সে মানুষকে পরকালের ব্যাপারে গাফেল করে দেয়। সে চায় এই উৎসবের দিনগুলোতে আপনি দ্বীনদারিতে একটু ঢিল দেন, হারাম কাজগুলো আপনার চোখ, গা ও মন-সওয়া হয়ে যায়, আপনার লজ্জাবোধ একটু একটু করে লোপ পায় অথবা আপনি নিজেই তার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। অধুনা কর্পোরেট জমিদারগোষ্ঠীগুলো আজকে কেবল তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে না, আজকে তারা বিক্রি করে চেতনাও, আর আমরা বিক্রি করি নিজেদের বিবেকবোধ, আত্মা ও সত্তা, কামাই করি আগুনের ফোয়ারা।
আমার ভাই ও বোনেরা, আপনার সেই বনী ইসরাইলের সেই প্রজন্মের মত হবেন না যাদেরকে সাগরপাড়ে বিপদ থেকে উদ্ধার করার পর তারা এক মূর্তিপূজারী সম্প্রদায়কে দেখে মূসা (আঃ) কে আবদার করেছিল, “আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন” [৩]। উত্তরে মূসা (আঃ) বলেছিলেন, “তোমরা বড়ই অজ্ঞ এক জাতি”।
আপনারা কি জানেন কেন আল্লাহ তাদেরকে এত বিশাল অনুগ্রহ করার পরেও তাদের মনে এমন উদ্ভট কাজ করতে ইচ্ছা হয়েছিল? এটি এজন্য যে, দীর্ঘদিন ফির’আউনের অধীনে বসবাস করার কারণে তারা পূর্বের দাসসুলভ মন-মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তারা নিজেদেরকে নীচু এবং বিজাতীয় জাতি ও তাদের কালচারকে শ্রেষ্ঠ মনে করত। তাদের শরীর ছিল মুক্ত, কিন্তু মন ও আত্মা ছিল বন্দী। তাদের কাছে জান্নাত থেকে আগত খাবার ভালো লাগতো না, ভালো লাগতো ফির’আউনী আমলের তরিতরকারী।
কোন জাতির মন-মগজ কতটুকু দখল করা যায় সেই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় colonilizability। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাঙ্গালী জাতি প্রবলমাত্রায় colonializable এক জাতি। তাই আমরা দেখছি “স্বাধীন” হবার পরেই বাঙ্গালী জাতির বিজাতীয় কালচারের প্রতি অনুরাগ বাড়াবাড়ি রকমের বেশি! আজকে বাঙ্গালী, কালকে হিন্দুস্তানী, পরশুদিন আমেরিকান! ঠিক যেন লাঞ্চিত বনী ইসরাঈলীদের মত, যাদেরকে ফির’আউনের হাত থেকে রক্ষা করার পরেও ফির’আউনী আমলের স্বভাব-চরিত্র ছাড়তে পারেনি। যে নবী তাদেরকে মুক্তির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই নবীকেই তারা বারবার কষ্ট দিয়েছে। তেমনিভাবে বাংলার মাটিতে যারা কাফিরদের আদর্শ ও জীবনাচরণ গ্রহণে সবচেয়ে বিরোধিতা করে, আজকে তাদেরকে সবচেয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা হয়।
যে কোন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তাদের ঈমান, যে ঈমানের মূল্য এই দুনিয়া, আর এমন আরো হাজারো দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে কোটি গুণ বেশি। আল্লাহ এই জাতিকে সম্মানিত করেছেন ইসলামের দ্বারা। আল্লাহ এই জমিনের বুক থেকে বৌদ্ধ আর হিন্দুদের জুলুমকে উৎখাত করেছেন মুসলিমদের দ্বারা, তবু কেন তাদের মত হতে চাওয়া?
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বড় বড় ভাবের কথা আর বিশাল আয়োজন দেখে বিভ্রান্ত হবেন না, সুন্দর কথা শুনেই গলে যাবেন না। কেননা,
“আর এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু — মানুষ ও জিন-এর মধ্যেকার শয়তানদের, তারা একে অন্যকে ধোঁকা দেয়ার জন্যে চমকপ্রদ কথাবার্তা বলে…” [৪]
কালচার কালচার” করলেই কালচার হয় না, আর “কালচার” হলেও সেটাকে চোখ বন্ধ করে মানতে হয় না। মক্কার মুশরিকদের কালচার ছিল ধরে বাচ্চা মেয়েকে কবরে পুঁতে ফেলা, সেবা রাজ্যের অধিবাসীদের কালচার ছিল সূর্যের উপাসনা করা, লূত (আঃ) ক্বওমের কালচার ছিল সমকামিতা, মজার ব্যাপারে তারা এসব কাজ করতে কিছুই মনে করত না, তাদের চোখে তাদের কালচারই ছিল সঠিক! তাই আপনার চোখে কোন উৎসব যতই আকর্ষণীয়, লোভনীয় বা মোহনীয় লাগুক না কেন, হতে পারে তা দিয়ে শয়তান আপনাকে সরলপথ থেকে সরিয়ে রাখতে চায়, যেভাবে অতীতে বহু জাতি ও গোষ্ঠীকে পথভ্রষ্ট করেছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
“যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে সুশোভিত করে দিয়েছি। অতএব, তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।” [৫]
একজন মুসলিমের জীবনে এর থেকে লজ্জার কিছু নেই যে ঈমান আনার পরেও সে কাফেরদের মত হবার চেষ্টা করে। হুজুগে মাতবেন না, হুজুগ হল পানিতে ভেসে থাকা ময়লা ফেনার মত “যা শুকিয়ে খতম হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে”। মুসলিম হতে চেষ্টা করুন, জাতি-পরিচয়, মানচিত্রের সীমারেখা, সংস্কৃতি, সভ্যতা, ভাষা – কোনকিছুই চিরন্তন নয়, একমাত্র ইসলাম টিকে থাকবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত, আর ইসলামকে মেনে চললে সেটির সুফল মিলবে চিরকাল।
আল্লাহর সামান্য অবাধ্যতা থেকে যেমন অসামান্য পাপরাশি জন্ম নেয়, তেমনি একটু সুবুদ্ধি, সমাজের চাপ আর মূর্খদের হাতছানিকে উপেক্ষা করে সত্যের আহবানে সাড়া দেওয়ার একটুখানি সৎসাহস আপনাকে বাঁচাতে পারে মহা-আগুন থেকে। আল্লাহ সহজ করুন।
“যারা তাদের মালিকের আহবানে সাড়া দেয়, তারা জন্য মহাকল্যাণ রয়েছে। আর যারা সাড়া দেয় না, (ক্বিয়ামতের দিন) যদি তাদের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে আরো সমপরিমাণ, তাহলেও (আযাব থেকে বাঁচতে) তারা তা (নির্দ্বিধায়) মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিত। এরাই হবে সেসব হতভাগ্য মানুষ, যাদের হিসাব হবে খুব কঠিন! জাহান্নামই হবে ওদের নিবাস, কত নিকৃষ্ট সে নিবাস!” [৬]

এই বিভাগের আরো পোষ্ট সমূহ

Share
Updated: March 2, 2015 — 7:55 pm

আমাদের পোষ্টগুলো ফলো এবং শেয়ার করতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসন্ধান ডটকম © 2016 Developed By - RUPONTI IT WORLD