মাংসখেকো উদ্ভিদেরা

জঙ্গলের মধ্যে হাজারো রকমের অসংখ্য পতঙ্গ ঘুরে বেড়ায়। এমনি একটি পতঙ্গ উড়ে বেড়াচ্ছিল একটি উদ্ভিদের উপর দিয়ে। হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পতঙ্গটি একটি উদ্ভিদের পাতার উপর গিয়ে বসলো। আর ঠিক তখনই উদ্ভিদের পাতাটি বন্ধ হয়ে গেল। ভেতরে আটকা পড়লো জীবন্ত পতঙ্গ। এক সময় সেখানেই পতঙ্গটি মৃত্যুবরণ করলো। কয়েকদিন পর সেখানে পতঙ্গটির শক্ত আবরণ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রইলো না…

dionamusci091

এই উদ্ভিদগুলোকে বলা হয়ে থাকে মাংসাশী উদ্ভিদ। পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির মাংসাশী উদ্ভিদ রয়েছে। এসব উদ্ভিদ শিকার করে নিজের পুষ্টির চাহিদা মেটায়। খাবার হিসেবে এরা মাছি, ছোট কীটপতঙ্গ, মাকড়সা, ব্যাঙ, গিরগিটি ইত্যাদি ভক্ষণ করে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ শিকারকে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। কোন প্রজাতির উদ্ভিদ শিকারকে আকৃষ্ট করার জন্য এক ধরনের মিষ্টি গন্ধ উৎপন্ন করে। এই মিষ্টি গন্ধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনেক কীটপতঙ্গ শিকারে পরিণত হয়। আবার কোন কোন প্রজাতির উদ্ভিদ শিকারকে আকৃষ্ট করার জন্য উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়।

শুধুমাত্র জীবন বাঁচানোর তাগিদে উদ্ভিদগুলোকে মাংসাশী হয়ে উঠতে হয়েছে। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল নাইট্রোজেন। মাংসাশী উদ্ভিদগুলো জন্মে ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে। সেসব স্থানের মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ খুবই কম। যে উদ্ভিদগুলো মূলের সাহায্যে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে তারা এই পরিবেশে বাঁচতে থাকতে পারে না। শুধুমাত্র মাংসাশী উদ্ভিদগুলোই এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে। আর বেঁচে থাকার জন্য যে নাইট্রোজেন প্রয়োজন তা তারা গ্রহণ করে শিকারকৃত মৃতদেহ থেকে।

যেহেতু উদ্ভিদ চলাফেরা করতে পারেনা তাই মাংসাশী উদ্ভিদকে তাদের শিকারকে আকৃষ্ট করে নিজের দিকে নিয়ে আসতে হয়। শিকার ধরার জন্য এরা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ। ফাঁদ পেতে উদ্ভিদগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। যদি কোন শিকার ভুল করে সেই ফাঁদে পা দেয় তাহলে সে আর মুক্ত হতে পারেনা। সে পরিণত হয় মাংসাশী উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানে ।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স ওয়ার্ল্ড

এই বিভাগের আরো পোষ্ট সমূহ

Share

আমাদের পোষ্টগুলো ফলো এবং শেয়ার করতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসন্ধান ডটকম © 2016 Developed By - RUPONTI IT WORLD